Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

যোগীর বুলডোজার নীতি মানবিক বিবেকে গভীর আঘাত হেনেছে।

নয়াদিল্লি: যোগী আদিত্যনাথের বুলডোজার নীতি ফের বিতর্কের মুখে। এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ল উত্তরপ্রদেশ সরকার ও প্রয়াগরাজ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট তাদের বাড়ি ভাঙার অভিযানকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি এএস ওকা ও উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের বিবেকে গভীর আঘাত হেনেছে। বাসস্থানের অধিকার এখানে পুরোপুরি লঙ্ঘিত হয়েছে।”

২০২১ সালে পুলিশি হেফাজতে গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের মৃত্যুর পর তাঁর জমির সঙ্গে যুক্ত থাকার ‘অভিযোগে’ যোগী সরকার বেশ কয়েকটি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী জুলফিকার হায়দর ও অধ্যাপক আলি আহমেদের মতো ব্যক্তিরা। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রয়াগরাজ ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিককে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

যোগী প্রশাসনের বুলডোজার নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগেও আদালত সতর্ক করে বলেছিল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে এমন অভিযান জনমনে ভুল বার্তা দেয়। এবার শুনানিতে আদালতের অবস্থান আরও কঠোর হয়। মামলাকারীদের আইনজীবী জানান, জমিটি আতিক আহমেদের নয়, প্রশাসন ভুল করে অভিযান চালিয়েছে। উপরন্তু, বাড়ি ভাঙার আগে ক্ষতিগ্রস্তদের নোটিসের জবাব দেওয়ার সামান্য সময়ও দেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকারের আইনজীবী দাবি করেন, বাড়ির দেওয়ালে নোটিস লাগানো হয়েছিল। আদালত তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন তোলে, “মালিকদের ডাক মারফত নোটিস কেন পাঠানো হয়নি?” এর কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি রাজ্যের প্রতিনিধি।

ক্ষুব্ধ আদালত বলে, “উত্তরপ্রদেশ সরকার ও প্রয়াগরাজ প্রশাসনের মনে রাখা উচিত, বাসস্থানের অধিকার সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এভাবে একতরফা অভিযান চালানো অসংবেদনশীলতার প্রমাণ।” এরপর বিচারপতিরা আম্বেদকর নগর জেলার জালালপুরে একটি বুলডোজার অভিযানের ভিডিও দেখান। সেখানে একের পর এক বাড়ি ভাঙছে বুলডোজার, আর বই হাতে নিয়ে পালাচ্ছে এক ক্ষুদে স্কুলছাত্রী। বিচারপতি ভূঁইয়া বলেন, “এই দৃশ্য সকলের হৃদয়ে ব্যথার কারণ হয়েছে।” ভিডিওটি নিয়ে বিরোধীরাও যোগী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেন, “এই বিজেপিই ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’র বড় বড় কথা বলে।”

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন