নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভিতর থেকে ভেসে আসছে দুমদুম শব্দ, যেন কেউ দরজায় আঘাত করছে। সঙ্গে মিশেছে কান্নার সুর। আবাসিকদের খবরে বাগুইআটি থানার পুলিশ ছুটে আসে ফ্ল্যাটে। দরজা ভেঙে ঢুকতেই চোখে পড়ে হতবাক করা দৃশ্য—মেঝেতে বসে কাঁদছেন এক যুবক, আর উপরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে এক তরুণীর নিথর দেহ! সময় গড়াতে না গড়াতেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। জানা যায়, তরুণী পেশায় বার ডান্সার ছিলেন। যুবক তাঁর প্রেমিক। একসঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন তাঁরা। সোমবার রাতে ফ্ল্যাটে প্রেমিকರ
তরুণী মনীষা রায় (২৪), বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরের একটি আবাসনে বসবাস করতেন। ওড়িশায় বার ডান্সার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেখানেই ওড়িশার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আড়াই বছর আগে দেশবন্ধুনগরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন মনীষা। মাঝেমধ্যে ওড়িশায় কাজে যেতেন, আবার ফিরে আসতেন এখানে। সোমবার রাতে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ফ্ল্যাটে পার্টির আয়োজন করা হয়। প্রেমিকের সঙ্গে রাতভর খাওয়া-দাওয়া ও মদ্যপযাপনের পর মনীষা বেডরুমে শুতে যান, দরজা বন্ধ করে দেন। নেশার ঘোরে প্রেমিক ড্রয়িংরুমেই ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে ঘুম ভাঙার পর তিনি মনীষাকে ডাকেন, কিন্তু কোনও সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। শব্দ শুনে আবাসিকরা পুলিশে খবর দেন। দরজা ভেঙে ঢুকে দেখা যায়, মনীষার দেহ ফ্যান থেকে ঝুলছে। প্রেমিক বাইরে বেরোতে পারেননি, কারণ ফ্ল্যাটের চাবি মনীষার কাছেই ছিল। চাবি না পেয়ে তিনি মৃতদেহের নীচে বসে কাঁদছিলেন।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রেমিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মনীষা আত্মহত্যা করেছেন। তাই খুন নয়, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মনীষা বিবাহবিচ্ছিন্না ছিলেন। তাঁর মা মারা গেছেন, বাবা বাগুইআটির একজন প্রোমোটার। পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, ১৬ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। তারপর মেয়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। মৃতদেহ নেওয়ার কথা বললেও রাত পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে আসেননি। ফলে মনীষার দেহ এখন আরজি কর হাসপাতালে ‘বেওয়ারিশ লাশ’ হিসেবে পড়ে আছে।