নয়াদিল্লি, ২ এপ্রিল: গতকালই ঘোষণা এসেছিল, আর সেই মতো আজ, বুধবার, লোকসভায় ওয়াকফ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করল মোদি সরকার। বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মাঝেও দুপুর ১২টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সংসদের নিম্নকক্ষে ‘দ্য ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫’ এবং ‘দ্য মুসলমান ওয়াকফ (রিপিল) বিল ২০২৪’ উত্থাপন করেন।
ওয়াকফ বিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। বিল পেশের পর কিরেণ রিজিজু পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে সংসদ ও বিমানবন্দরের জমি ওয়াকফের হাতে তুলে দিত কংগ্রেস। মোদি সরকার তা রুখে দিয়েছে। সংসদ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিরোধী সাংসদরা তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, এই বিল সংবিধানবিরোধী এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র।
বিরোধীদের চাপে সরকার এদিন বিতর্কিত এই বিল নিয়ে আট ঘণ্টার আলোচনায় সম্মত হয়েছে, যার পরে হবে ভোটাভুটি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাশ করাতে মরিয়া কেন্দ্র। বিরোধীরা জানেন, সংখ্যার অভাবে বিল আটকানো সম্ভব নয়। তবু আলোচনায় যুক্তি ও তথ্য দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে তৎপর তাঁরা। সব বিরোধী দলই সভায় সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ‘হুইপ’ জারি করেছে।
সকালে কংগ্রেস সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের ‘সমন্বয়-৩’ কক্ষে মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে ৩০ জন বিরোধী সাংসদের বৈঠক হয়। তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাদিমুল হক। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, সম্মিলিতভাবে বিরোধীরা বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবে।