Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

এসআইআর ঘোষণার পরপরই পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল: একদিনে ৫২৭ জন আমলার বদলি, রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে

কলকাতা, ২৮ অক্টোবর ২০২৫: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ গहन সংশোধন (SIR) ঘোষণার ঠিক পরপরই পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সোমবার একই দিনে মোট ৫২৭ জন আইএএস (IAS) এবং ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আমলাকে বদলি করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় একক-দিবসীয় রদবদল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পদক্ষেপ নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিজেপি এটিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে, আবার সরকার এটিকে ‘সাধারণ প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করছে।

নবান্নের নির্দেশিকা অনুসারে, এই বদলির মধ্যে রয়েছে ৭০ জন আইএএস এবং ডব্লিউবিসিএস অফিসার, যার মধ্যে ১৪ জন জেলাশাসক (DM), ২২ জন অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং ৩০ জন সাব-ডিভিশনাল অফিসার (SDO) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ১৫১ জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) এবং অন্যান্য স্তরের ৩০০-এরও বেশি কর্মকর্তার বদলি হয়েছে। এই রদবদলটি ২৭ অক্টোবর সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে, যা SIR-এর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এসেছে। SIR প্রক্রিয়া ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ ১২টি রাজ্যে শুরু হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বদলি ‘স্বাভাবিক প্রশাসনিক পুনর্গঠন’ এবং কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। নবান্নের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এটি নিয়মিত বছরব্যাপী প্রক্রিয়ার অংশ, যা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের জন্য করা হয়।” তবে, বিজেপি নেতারা এটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “SIR-এর সময় এমন ব্যাপক বদলি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে। আমরা কমিশনের কাছে অভিযোগ করব এবং এই আদেশ বাতিলের দাবি জানাব।” এই বিতর্কের মধ্যে কংগ্রেসও গোবায় অনুরূপ বদলির বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তুলেছে, যদিও পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে তারা এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে, SIR-এর সময়কালে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রদবদল TMC সরকারের ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করছে।

এই বদলির ফলে রাজ্যের জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রভাবিত কর্মকর্তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন পদে যোগদান করবেন। নির্বাচন কমিশন এখনও এই বদলি নিয়ে কোনো মন্তব্য জারি করেনি, কিন্তু বিজেপির অভিযোগের পর তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন