৫ নভেম্বর ২০২৫: হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে ‘ভোটচুরির ফল’ বলে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘এইচ-বোমা’ ফাটিয়েছেন। তাঁর দাবি, একজন ব্রাজিলিয়ান মডেলের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন নামে ২২টি ভুয়া ভোটার কার্ড তৈরি হয়েছে, যা হরিয়ানার ১০টি ভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন রাহুল।
ব্রাজিলিয়ান মডেলের ছবিতে ‘জালিয়াতির প্রমাণ’
রাহুল গান্ধীর প্রধান উদাহরণ হলো ব্রাজিলের এক মডেল ম্যাথুজ ফেরেরোর (Matthuz Ferreiro) ছবি। এই ছবিটি হরিয়ানার ভোটার তালিকায় বিভিন্ন নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—যেমন সীমা, সুইটি, সরস্বতী, কবিতা সহ অন্যান্য নাম। তাঁর মতে, এই একই ছবি ব্যবহার করে অন্তত ২২টি ভুয়া ভোটার কার্ড তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হরিয়ানার ১০টি ভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সম্মেলনে রাহুল একটি স্লাইড দেখিয়ে বলেছেন, “এই ছবিটি ব্রাজিলের এক মডেলের, কিন্তু হরিয়ানায় এটি সীমা, সুইটি বা সরস্বতীর নামে ভোট দিয়েছে। এটাই ভোটচুরির স্পষ্ট প্রমাণ।”
এছাড়া, তিনি আরও একটি উদাহরণ দিয়েছেন: হরিয়ানার একটি বিধানসভা কেন্দ্রে একই মহিলার ছবি সংবলিত ১০০টি ভোটার কার্ড পাওয়া গেছে। দু’টি ভোটকেন্দ্রের তালিকায় মোট ২২৩টি এমন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। রাহুল বলেছেন, “হরিয়ানার দু’কোটি ভোটারের মধ্যে ২৫ লক্ষ (প্রায় ১২ শতাংশ) ভুয়ো ভোটার ছিল, যা বিজেপি ভোটচুরির জন্য ব্যবহার করেছে।”
বিস্তৃত অভিযোগ: ‘পদ্মশিবিরের কারচুপি’
রাহুলের অভিযোগ শুধু এই উদাহরণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের হরিয়ানা নির্বাচনে সমীক্ষায় কংগ্রেস সব বুথ থেকে জয়ী ছিল, কিন্তু ফলাফল উল্টে গেছে। পোস্টাল ব্যালটগুলো প্রকৃত ভোটের সঙ্গে মিলেনি—যা হরিয়ানার ইতিহাসে প্রথম। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি (‘পদ্মশিবির’) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলে এই কারচুপি করেছে। কমিশন বুথের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে অভিযোগ আড়াল করছে। “এটি গণতন্ত্রের উপর আঘাত,” বলে রাহুল জানিয়েছেন।
এই অভিযোগগুলো বিয়ার নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্থাপিত হয়েছে, যাতে কংগ্রেস ভোটারদের সতর্ক করার চেষ্টা করছে। রাহুল বলেছেন, “আমরা এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”
নির্বাচন কমিশনের জবাব: ‘কোনো অভিযোগ নেই’
নির্বাচন কমিশন রাহুলের দাবিকে খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, হরিয়ানার ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা জমা পড়েনি। পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে মাত্র ২২টি নির্বাচনী আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলটি অতীতে এমন অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। কংগ্রেসের এই ‘প্রমাণভিত্তিক’ অভিযোগ কতদূর প্রভাব ফেলবে, তা বিয়ার নির্বাচনের ফলাফলে নির্ভর করবে।

