বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (বিহার মহারণ) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৮টি জেলার ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ভোটার মোট ১,৩১৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করছেন। নির্বাচন কমিশন ৪৫,৩৪১টি ভোটকেন্দ্রে আঁটসাঁট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
এবারের নির্বাচনকে বিভিন্ন কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
১. ত্রিমুখী লড়াই: এই প্রথম বিহারের মসনদের লড়াই ত্রিমুখী। একদিকে এনডিএ, অন্যদিকে মহাগঠবন্ধন (ইন্ডিয়া জোট) থাকলেও, তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) ‘জন সুরাজ পার্টি’।
২. জাতি গণনা: ২০২৩ সালে প্রকাশিত জাতি গণনার রিপোর্টের পর এটিই বিহারের প্রথম নির্বাচন।
৩. এসআইআর (SIR): ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার বিতর্কের মধ্যেই এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ এলাকার ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
হেভিওয়েটদের ভাগ্য পরীক্ষা

প্রথম দফাতেই একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা চলছে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
* মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব (রাঘোপুর)
* বিজেপির উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় কুমার সিনহা
* লালু-পুত্র তেজপ্রতাপ যাদব
* ভোজপুরি অভিনেতা কেশরীলাল যাদব
* লোকসংগীত শিল্পী মৈথিলী ঠাকুর
* জেডিইউ সভাপতি উমেশ কুশওয়া
* জেলবন্দি অনন্ত সিং এবং সাহাবুদ্দিন-পুত্র ওসামা
রাঘোপুর কেন্দ্রে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে নামা তেজস্বী যাদবের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সতীশ কুমার হলেও, প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টিও এই আসনে বড় চ্যালেঞ্জার হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রশান্ত কিশোর বনাম জাতপাতের অঙ্ক
প্রশান্ত কিশোরের মূল অস্ত্র এবং আশা হলো রাজ্যের শিক্ষিত ও যুব সমাজ। প্রথম দফাতেই ১৮-১৯ বছর বয়সী নতুন ভোটারের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৩৮ হাজার। পিকে দাবি করেছেন, তাঁর দল এনডিএ এবং ইন্ডিয়া—উভয় জোটকেই বেগ দেবে।
তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি চাকরি, জল, বিদ্যুৎ বা মহিলাদের আর্থিক সাহায্যের মতো প্রতিশ্রুতির পরেও বিহারের ভোটের চেনা ছক বা জাতপাতের অঙ্ক উপেক্ষা করা কঠিন।
২০২৩ জাতি গণনার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান:
* অতি পিছড়ে (EBC): ৩৬.০১%
* ওবিসি (OBC): ২৭.১%
* তপশিলি জাতি (SC): ১৯.৬৫%
* উচ্চবর্ণ (General): ১৫.৫২%
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জাতপাতের সমীকরণের কারণেই জেডিইউ, আরজেডি বা বিজেপির মতো দলগুলি নিজস্ব গড়ে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
২০২০ সালের নির্বাচনে এই ১২১টি আসনের মধ্যে মহাজোট ৬১টি এবং এনডিএ ৫৯টি আসন জিতেছিল। এবার ত্রিমুখী লড়াই এবং এসআইআর-এর মতো নতুন ফ্যাক্টরগুলি এই ফলাফল বদলে দিতে পারে কিনা, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

