Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

সাধারণ মানুষের অর্থ নিয়েও অধরা স্বপ্ন: আব্বাস সিদ্দিকীর ‘নলেজ সিটি’ বিতর্কের ছায়া হুমায়ুন কবিরের নতুন উদ্যোগে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বেলডাঙা: ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা তথা আই এস এফ (ISF) প্রধান আব্বাস সিদ্দিকীর বহুচর্চিত ‘নলেজ সিটি’ প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী (ইট) সংগ্রহ করা সত্ত্বেও এই বহুমুখী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পটি আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই আবহে, একই পদ্ধতিতে অর্থ ও উপকরণ সংগ্রহের পথে হেঁটেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। ফলে, সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, তিনিও কি একই ‘অধরা স্বপ্নের’ পথে হাঁটবেন?

আব্বাস সিদ্দিকীর নলেজ সিটি: প্রশ্নচিহ্নের মুখে স্বচ্ছতা

​দীর্ঘদিন ধরে আব্বাস সিদ্দিকী তাঁর ‘নলেজ সিটি’ প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

  • বিশাল সংস্থান, সীমিত অগ্রগতি: স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিপুল সংখ্যক মানুষ এই মহৎ উদ্যোগে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রী দান করেছেন। তবে, দান করা অর্থ ও ইটের পরিমাণের তুলনায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • বিস্ফোরক অভিযোগ: ফুরফুরা শরীফের অপর পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী (Twaha Siddiqui) প্রকাশ্যে এই প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও নলেজ সিটির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাতৃসদন চালু করার কথা জানানো হয়েছে, কিন্তু সমগ্র প্রকল্প আজও তার ঘোষিত রূপ পায়নি। সাধারণ মানুষের দাবি, এই বিশাল অঙ্কের দানের হিসাব এবং বাকি প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎ আজও অন্ধকারে।

হুমায়ুন কবিরের ‘বাবরি মসজিদ’ প্রকল্প: একই পথের আশঙ্কা

​আব্বাস সিদ্দিকীর নলেজ সিটি নিয়ে যখন এই বিতর্ক বিদ্যমান, ঠিক তখনই ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় একটি বিশাল আকারের ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

  • ইট ও অর্থ সংগ্রহ: হুমায়ুন কবিরও তাঁর এই প্রকল্পের জন্য ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে ইট এবং অর্থ সাহায্য চেয়েছেন। ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া আব্বাস সিদ্দিকীর নলেজ সিটির কৌশলকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
  • জনতার উদ্বেগ: স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, আব্বাস সিদ্দিকীর মতো তিনিও কি শুধুমাত্র প্রচারের আলোয় থাকার জন্য এমন প্রকল্প শুরু করলেন? একবার অর্থ সংগৃহীত হওয়ার পর প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে, তার দায়ভার কে নেবে? এই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বিধায়কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক এবং আইনি জটিলতা।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বড় আকারের জনকল্যাণমূলক বা ধর্মীয় প্রকল্পে জনসাধারণের আস্থা ধরে রাখতে হলে, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সময়মতো কাজ শেষ করা অত্যাবশ্যক। নচেৎ, ধর্মীয় বা জনসেবার নামে অর্থ সংগ্রহের যেকোনো উদ্যোগেই সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা করতে পারেন।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন