বাংলার রাজনীতিতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এখন আর কেবল জনসভার মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে ওয়ালে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “টর্নেডো-কালবৈশাখী” মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই, বিজেপি নেতা সজল ঘোষের একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কী লিখেছেন সজল ঘোষ?
সম্প্রতি সজল ঘোষ তাঁর ফেসবুক ওয়ালে মুখ্যমন্ত্রীর সাহিত্যচর্চা ও তাঁর হেলিকপ্টার যাত্রা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি লিখেছেন:
“হেলিকপ্টারে কবিতা লিখুন আপত্তি নেই, কিন্তু পড়ে শোনাবেন না। ইঞ্জিনে গোলযোগ দেখা দিতে পারে।”

প্রেক্ষাপট: দুর্ঘটনা না কি ব্যঙ্গ?
এই মন্তব্যের পেছনে দুটি প্রধান দিক উঠে আসছে:
হেলিকপ্টার বিভ্রাট: অতীতে একাধিকবার যান্ত্রিক গোলযোগ বা আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করতে হয়েছে। সজল ঘোষ সম্ভবত সেই প্রসঙ্গটিকেই খোঁচা দিয়েছেন।
সাহিত্য সমালোচনা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা নিয়ে বিরোধীরা বরাবরই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে থাকেন। সজল ঘোষের ইঙ্গিত—মুখ্যমন্ত্রীর কবিতা পাঠ এতটাই ‘ভয়ঙ্কর’ যে তা হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনেও প্রভাব ফেলতে পারে!
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
সজল ঘোষের এই পোস্টের পর তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। শাসকদলের দাবি, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং তাঁর ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা নিয়ে এই ধরণের কুরুচিকর মন্তব্য বিজেপির “সংস্কৃতির অভাব”কেই প্রকাশ করে। তারা একে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ হিসেবেই দেখছে।
নেটপাড়ায় শোরগোল
পোস্টটি শেয়ার হওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ একে ‘রাজনৈতিক সেন্স অফ হিউমার’ বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ বলছেন রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রসিকতা করা উচিত নয়।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। সজল ঘোষের এই ফেসবুক পোস্টটি সেই রাজনৈতিক লড়াইয়েরই একটি ডিজিটাল সংস্করণ মাত্র।

