কলকাতা, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করলেন সাবেক সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আজ, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখে তিনি আটটি বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
চিঠির মূল বিষয়বস্তু:
অধীর চৌধুরী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, রমজান ও ঈদ মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সময় রোজা ও ইবাদতে ব্রতী থাকেন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় আচার যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য তিনি নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন:
১. রেশনে বিশেষ বরাদ্দ: রেশন দোকানে চাল, ডাল, চিনির পাশাপাশি খেজুর ও খুরমার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা।
২. বাজার দর নিয়ন্ত্রণ: উৎসবের মরসুমে ফলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রুখতে বিশেষ ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করে বাজার তদারকি করা।
৩. নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা: ইফতার ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখা এবং ভোররাত্রে পর্যাপ্ত পানীয় জলের সুব্যবস্থা করা।
৪. পরিবহন সুবিধা: ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকে অতিরিক্ত বাস ও ট্রেন চালিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো।
৫. পরীক্ষা সংক্রান্ত বিবেচনা: ঈদের নামাজের সপ্তাহে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বড় পরীক্ষা না রাখা, যাতে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা না হয়।
৬. অফিস সময় ও ছুটি: রোজাদার কর্মীদের জন্য অফিসের সময় সাময়িকভাবে এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা এবং ঈদের সময় টানা ৩ দিনের সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করা।
সম্প্রীতির বার্তা:
চিঠিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন, এই দাবিগুলো কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটি প্রশাসনিক মানবিকতার প্রতিফলন। দুর্গাপূজা বা অন্যান্য বড় উৎসবের সময় সরকার যেভাবে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, রমজান ও ঈদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন।
নবান্ন বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই চিঠির প্রেক্ষিতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উৎসবের আগে বর্ষীয়ান এই নেতার এই প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে।

