পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য-রাজনীতি। রাজ্যের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপির গুরুতর অভিযোগ এনেছে। নির্বাচন কমিশনের রুটিন প্রক্রিয়াকে ঘিরেই এই রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে।
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা অস্বচ্ছ এবং এতে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম রয়ে গেছে। তাদের দাবি, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ‘ভুয়ো’ ভোটারদের ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্যায় সুবিধা ভোগ করে। বিজেপির নেতারা একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং তালিকা থেকে এই ধরনের নাম বাদ দিয়ে একটি “পরিচ্ছন্ন” ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
বিজেপির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি আসলে “তালিকা সংশোধন”-এর নামে একটি গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে, যারা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপির সমর্থক নন, বিশেষত সংখ্যালঘু এবং অনগ্রসর শ্রেণীর ভোটারদের। তৃণমূলের মতে, এটি আসলে জীবিত এবং প্রকৃত ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
এই রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত এবং প্রোটোকল-ভিত্তিক প্রক্রিয়া। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, মৃত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের আবেদন খতিয়ে দেখেই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটিই নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছতার সাথে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনগুলিকে সামনে রেখে, ভোটার তালিকার এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়বে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের খেলায় প্রকৃত ভোটাররা যেন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

