কলকাতা: কোনো এক সময়ে পরনে ছিল সাধারণ আইনজীবী বা ‘উকিলের গাউন’, লক্ষ্য ছিল আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিচার পাওয়া। কিন্তু ভাগ্য এবং অদম্য জেদ তাঁকে নিয়ে এসেছিল রাজপথের লড়াইয়ে। সেই লড়াকু নেত্রীই আজ ভারতের রাজনীতির এক অনন্য নক্ষত্র এবং পশ্চিমবঙ্গের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। আলিপুর আদালতের সেই আইনজীবী আজ শুধু বাংলার ‘দিদি’ নন, বরং জাতীয় রাজনীতির এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
লড়াইয়ের হাতেখড়ি
১৯৭০-এর দশকে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি (LLB) অর্জনের পর আইন পেশায় যোগ দিলেও, মানুষের অভাব-অভিযোগ তাঁকে বারবার টেনে এনেছে রাজপথে। ১৯৮৪ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৎকালীন হেভিওয়েট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ভারতের কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই লড়াকু নারী।
ইতিহাস গড়ার পথে
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম থেকে শুরু করে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে চড়াই-উতরাই ছিল পাহাড়প্রমাণ। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁকে থামাতে পারেনি। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি যে ইতিহাস গড়েছিলেন, তা আজও ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
একনজরে মমতার জয়গাথা:
আইনজীবী থেকে সাংসদ: আশির দশকের শুরুতেই আইন পেশার পাশাপাশি জাতীয় স্তরে উত্থান।
সংগ্রামের প্রতীক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই হার না মানা জেদ আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
তৃতীয় ইনিংস: ২০২১-এর নির্বাচনে সব প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে বিশাল জয় প্রমাণ করেছে তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের অবিচল আস্থা।
আজকের এই দিনে তাঁর সেই উকিল কোর্ট পরা শুরুর দিনগুলো স্মরণ করলে বোঝা যায়, নিষ্ঠা আর সংকল্প থাকলে একজন সাধারণ আইনজীবীও কীভাবে দেশের ইতিহাস বদলে দিতে পারেন।

