Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

আমি ইসরায়েল সরকারের গাজায় গণহত্যা চালানোর বিষয়ে কথা বলেছি এবং আমাদের সরকারের এটি অর্থায়ন করার বিষয়েও বলেছি।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র-ইলেক্ট যোহরান মামদানি (Zohran Mamdani) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ২১ নভেম্বর, ২০২৫-এ ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এটি ছিল দুজনের মধ্যে প্রথম সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক, যা মাসখানেক ধরে চলা বিতর্কের পর আয়োজিত হয়। মামদানি, যিনি নিউ ইয়র্কের প্রগতিশীল নেতা হিসেবে পরিচিত এবং গাজা ইস্যুতে কট্টর অবস্থান নিয়ে থাকেন, এই বৈঠকে ইসরায়েলের গাজায় চলমান অভিযানকে ‘গণহত্যা’ (genocide) হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং মার্কিন সরকারকে এর অর্থায়নের জন্য দায়ী করেন। তবে, তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে ‘গণহত্যাকারী’ বলেননি—অভিযোগটি ইসরায়েল সরকার এবং মার্কিন সরকারের (যা ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন) দিকে নির্দেশিত। এটি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরা হওয়ার প্রথম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

গাজায় গণহত্যা এবং ইসরায়েলের অভিযোগ: মামদানি বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি ইসরায়েল সরকারের গাজায় গণহত্যা চালানোর বিষয়ে কথা বলেছি এবং আমাদের সরকারের এটি অর্থায়ন করার বিষয়েও বলেছি।” (I’ve spoken about the Israeli government committing genocide [in Gaza] and I’ve spoken about our government funding it.) তিনি এরপরও বলেন যে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যা গাজার প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে। এই অভিযোগটি মামদানির দীর্ঘদিনের অবস্থানের অংশ, যা তিনি নির্বাচনী প্রচারের সময়ও তুলে ধরেছিলেন।
 
মার্কিন ফান্ডিং এবং অর্থায়ন: মামদানি জোর দিয়ে বলেন যে, নিউ ইয়র্কের করদাতাদের টাকা গাজার মতো ইস্যুতে ব্যয় হওয়া উচিত নয়। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, “নিউ ইয়র্কবাসীদের অনেকেই চান যেন তাদের করের টাকা নিউ ইয়র্কবাসীদের মৌলিক জীবনযাত্রার সুবিধায় ব্যয় হয়।” (The concerns that many New Yorkers have of wanting their tax dollars to go towards the benefit of New Yorkers and their ability to afford basic dignity.) এটি মার্কিন সরকারের ইসরায়েলকে বার্ষিক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সাহায্যের প্রসঙ্গে বলা হয়।

-অন্যান্য আলোচনা: বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল নিউ ইয়র্কের অর্থনৈতিক ইস্যু, যেমন দামবৃদ্ধি, ট্যারিফ এবং শহরের উন্নয়ন। মামদানি এবং ট্রাম্প উভয়েই এসব বিষয়ে ‘অনেক মিল’ খুঁজে পান, যেমন নিউ ইয়র্ককে ‘আবার মহান করা’।

বৈঠকের টোন এবং পরিণতি
বৈঠকের টোন অপ্রত্যাশিতভাবে উষ্ণ এবং সম্মানজনক ছিল, যা মাসখানেকের ব্যক্তিগত আক্রমণের পর চমকপ্রদ। ট্রাম্প মামদানিকে ‘যুক্তিবাদী ব্যক্তি’ (very rational person) বলে প্রশংসা করেন এবং বলেন, “আমি একজনের সাথে দেখা করেছি যিনি সত্যিই চান নিউ ইয়র্ককে আবার মহান করতে।” (I met with a man who is a very rational person. I met with a man who really wants to see New York be great again.) তিনি এমনকি বলেন, “আমি তাকে সাহায্য করতে চাই, ক্ষতি করতে নয়।” (I want to be helping him, not hurting him.) মামদানি প্রশংসা ফিরিয়ে দেননি, তবে সম্মানজনকভাবে আলোচনা চালিয়ে যান। ট্রাম্প একবার মজা করে বলেন, যখন মামদানিকে তাঁর পূর্বের ‘ডেসপট’ (despot) বলার প্রশ্ন করা হয়, তখন “ঠিক আছে, আপনি শুধু ‘হ্যাঁ’ বলতে পারেন”।

পরবর্তী প্রতিক্রিয়া: রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র—কিছু নেতা যেমন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বা কংগ্রেসওম্যান এলিজ স্টেফানিক মামদানিকে ‘জিহাদি’ বা ‘কমিউনিস্ট’ বলে আক্রমণ করেন, কিন্তু ট্রাম্প এগুলোকে খারিজ করেন। এই বৈঠক GOP-এর অভ্যন্তরীণ বিভেদ (বিশেষ করে ইসরায়েল সমর্থন নিয়ে) তুলে ধরেছে। মিডিয়ায় এটিকে ‘চমকপ্রদ সমঝোতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও গাজা ইস্যুতে কোনো সমাধান হয়নি।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন