Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

রাজপথ ছেড়ে গ্রামে যান, মানুষ ধর্মের কথা বলে না, বলে আবাসের ঘর আর ১০০ দিনের কাজের কথা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের SIR (Special Intensive Revision) এবং বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি শাসকদল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-র বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, এই ‘অস্থিরতার রাজনীতি’ আসলে আসল ইস্যুগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার এক কৌশল।
টিভিতে ধর্ম, পাড়ায় অধিকারের লড়াই
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, রাজ্যে তথাকথিত যে ধর্মীয় মেরুকরণের কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবের মাটিতে অনুপস্থিত। তিনি বলেন:
“ধর্মীয় মেরুকরণ পাড়ায় নেই, ওটা শুধু টিভিতে আর তৃণমূল-বিজেপি নেতাদের কথায় আছে। রাজপথ ছেড়ে গ্রামে গিয়ে মানুষের সাথে বসলে দেখবেন, তারা ধর্মের কথা বলছে না। তারা বলছে আবাসের ঘর, ১০০ দিনের কাজ, নিজের মজুরি আর মাইক্রোফাইন্যান্সের ঋণের জালের কথা।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের একাংশ নির্দিষ্ট কিছু মুখকে সামনে রেখে ধর্মকে নিয়ে উন্মাদনা তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার দাবিকে গ্রাস করে নিচ্ছে।
‘চোর’ বনাম ‘হেভিওয়েট’ বিতর্ক
নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে মীনাক্ষী সপাটে জানান, বামপন্থীদের কাছে ‘হেভিওয়েট’-এর সংজ্ঞা আলাদা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “জেলখাটা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আপনারা হেভিওয়েট বলতে পারেন, আমরা পারি না।” তাঁর দাবি, বামফ্রন্টের প্রতিটি কর্মী ও প্রার্থীই হেভিওয়েট, কারণ তাঁরা কেউ চুরির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি মনে করেন, মানুষ কাকে গুরুত্ব দেবে, তা কোনো মিডিয়া নয়, বরং মানুষ নিজেই ঠিক করবে।
বিকল্প জোটের ডাক: তৃণমূল-বিজেপি বর্জন
আগামী দিনে জোটের সমীকরণ নিয়ে মীনাক্ষী তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি জানান, তৃণমূল এবং বিজেপি—এই দুই শক্তির বিরুদ্ধেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জোট তৈরি হচ্ছে। গ্রাসরুট লেভেলে বা তৃণমূল স্তরে মানুষ এই দুই দলকে হারাতে মরিয়া। জোট প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা:
তৃণমূল, বিজেপি এবং কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে বামেরা আপস করবে না।
মানুষের প্রয়োজনে যারা এই শক্তির বাইরে এসে লড়তে চান, তাঁদের জন্য বামপন্থীদের ‘হাত বাড়ানো’ রয়েছে।
প্রশাসন, সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিরপেক্ষভাবে মানুষের কথা বলে, তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত।


মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বামেরা আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবর্তে রুটি-রুজির লড়াই এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই এগোতে চাইছে। তৃণমূল ও বিজেপি-কে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি মূলত একটি ‘অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক’ বিকল্পের আহ্বান জানিয়েছেন।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন