ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও প্রশাসনিক সংবেদনশীলতার এক অনন্য নজির স্থাপন করল তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে রোজা পালন এবং ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য প্রতিদিন এক ঘণ্টা আগে অফিস ত্যাগের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছরে দুই রাজ্যে প্রচলিত এই রীতিটি এবারও যথাযোগ্য গুরুত্বের সাথে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীরা। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে “মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক” হিসেবে দেখছেন সমাজকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
প্রশাসনিক আদেশের বিস্তারিত

তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক সার্কুলারে জানানো হয়েছে:
সময়সীমা: রমজান মাস চলাকালীন প্রতিদিন বিকাল ৪টায় অফিস ত্যাগ করতে পারবেন মুসলিম কর্মচারীরা। (সাধারণত যেখানে ছুটির সময় ৫টা বা ৫:৩০টা)।
আওতাভুক্ত কর্মী: সকল নিয়মিত গেজেটেড এবং নন-গেজেটেড অফিসার ছাড়াও চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।
প্রতিষ্ঠান: সচিবালয়, জেলা অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোতে এই আদেশ কার্যকর হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় উপবাস (রোজা) পালনের পর সূর্যাস্তের সময় ‘ইফতার’ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে যানজট বা দূরত্বের কারণে যেন কোনো কর্মীর ইফতার বিঘ্নিত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই আগাম ছুটির ব্যবস্থা। এছাড়া তারাবিহ নামাজ ও রাতের ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
তেলেঙ্গানা সরকার জানিয়েছে, রাজ্যটি সবসময়ই “গঙ্গা-যমুনা তেহজিব” বা মিশ্র সংস্কৃতির ধারক। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, প্রতিটি ধর্মের মানুষের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শনই রাজ্যের লক্ষ্য।
কর্মচারী সংগঠনের বক্তব্য:
তেলেঙ্গানা সংখ্যালঘু কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, “এটি কেবল এক ঘণ্টার ছুটি নয়, বরং আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সরকারের দেওয়া বড় সম্মান। এতে কর্মীরা আরও উদ্যম নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা পান।”

