বিধানসভা নির্বাচনের আগে আজ বিধানসভায় পেশ করা হলো ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট। একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ডিএ (DA) ঘোষণা, অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে এই বাজেটকে ‘জনমুখী’ বলে দাবি করছে শাসক দল।
১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও সামাজিক সুরক্ষা
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: এই প্রকল্পে মাসিক ভাতার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ বিভাগের মহিলারা ১,০০০ টাকার পরিবর্তে ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,২০০ টাকার পরিবর্তে ১,৭০০ টাকা করে পাবেন।
আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী: আশা কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক ভাতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২. বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী’
বেকারত্বের মোকাবিলায় রাজ্য সরকার নিয়ে এল নতুন প্রকল্প ‘বাংলার যুব সাথী’।
এই প্রকল্পের অধীনে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বছর এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এর জন্য বাজেটে ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৩. সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ প্রদানের কথা জানিয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ নিয়ে অসন্তোষ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন থেকে মোট ডিএ-র পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ২২ শতাংশে।
৪. পরিকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়ন
পথশ্রী ৩: রাজ্যের গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ঘোষণা করা হয়েছে।
সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ড: সিভিক ভলান্টিয়ার এবং হোমগার্ডদের দৈনিক ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কাজের স্থায়িত্ব নিয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
৫. কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প
মৎস্যজীবী এবং পশুপালকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পের (MSME) প্রসারে বিশেষ ক্লাস্টার তৈরির পরিকল্পনা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে “মানুষের বাজেট” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এটিকে “ভোটের আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি” বলে কটাক্ষ করেছে।

