পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন বা SIR নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা রাজপথে নেমে এসেছে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে যে তারা সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। এই মন্তব্যের ভিত্তিতে একটি বড় বিতর্ক জমে উঠেছে, যা সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
সাম্প্রতিককালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার SIR প্রকল্পের মাধ্যমে শিলিগুড়ি-আলিপুরদুয়ার এলাকায় বড় আকারের শিল্পায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের পলিসি ফর ডেভেলপমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন্সের অধীনে চালু হয়েছে, যার লক্ষ্য উত্তরবঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। তবে বিরোধী দলগুলো প্রধানত বিজেপি এবং কংগ্রেস এটিকে জমি দখলের ষড়যন্ত্র হিসেবে চিত্রিত করে স্থানীয় কৃষক-আদিবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ জাগানোর চেষ্টা করছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ।
গত ৪ নভেম্বর থেকে কলকাতা, সিলিগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ে তৃণমূল সমর্থকরা রাস্তায় নেমে SIR-বিরোধী শক্তিকে প্রতিরোধ নিয়ে মিছিল করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আয়োজিত এই আন্দোলনে ব্যানারে লেখা হয়েছে যে বিরোধীরা সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে এবং SIR আমাদের উন্নয়নের পথ। এই মন্তব্যটি তৃণমূলের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিরোধীদের ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে।
এই মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করলে দেখা যায় যে এটি আংশিকভাবে বাস্তব, তবে পুরোপুরি একপেশে নয়। গত ৩-৫ নভেম্বরের মধ্যে তৃণমূল-সমর্থিত যুবমণ্ডলী এবং মহিলা সমিতি সিলিগুড়িতে দুটি বড় মিছিল করেছে, যাতে প্রায় ৫,০০০-এর বেশি সমর্থক অংশ নিয়েছে। কলকাতার এসপ্ল্যানেডে একটি সমাবেশও হয়েছে, যেখানে আবার বিরোধীদের ষড়যন্ত্র থিম উঠে এসেছে।
বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এবং কংগ্রেসের অধ্যক্ষ অদহির রঞ্জন চৌধুরী সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন যে SIR প্রকল্পে কৃষকদের জমি ছিনিয়ে নেওয়া হবে এবং এটি কেন্দ্রের অ্যাডানি-সমর্থিত ষড়যন্ত্র। এই দাবিগুলো স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা তৃণমূলের দাবি অনুসারে ভুল তথ্য। SIR-এর অধীনে জমি অধিগ্রহণের কোনো বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া নেই এটি স্বেচ্ছায় বিনিয়োগকারীদের জন্য। তবে বোকা বানানো শব্দটি রাজনৈতিক হাইপারবোল। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তৃণমূল নিজেরাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করছে। স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলো উভয় পক্ষকেই অভিযুক্ত করেছে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে শিলিগুড়ির ৪৫ শতাংশ বাসিন্দা SIR-এর পক্ষে কিন্তু ৩০ শতাংশ উদ্বিগ্ন জমি হারানোর ভয়ে।
বিরোধীরা SIR-কে পরিবেশবিরোধী বলে প্রচার করেছে, যা আংশিক সত্য প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন চলছে কিন্তু এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ যে তারা মানুষকে ভুল পথ দেখাচ্ছে তা রাজনৈতিক কারণ উভয় পক্ষই ভোটের জন্য ইস্যুকে ব্যবহার করছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি আরও স্পষ্ট।
এই মন্তব্যটি তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মনে হয় যা বিরোধীদের আক্রমণাত্মকতার জবাবে। কিন্তু সত্যতা যাচাইয়ে দেখা যায় SIR প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো বড় জমি অধিগ্রহণ হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আছে কিন্তু বোকা বানানোর অভিযোগটি অতিরঞ্জিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন উভয় পক্ষেরই স্বচ্ছতার অভাব এই বিতর্ককে জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় নেতারা বলছেন এটি উন্নয়নের সুযোগ কিন্তু স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষা না করলে সমস্যা হবে। তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেছেন আমরা রাজপথে আছি সত্যের পক্ষে। অন্যদিকে বিজেপির দিলীপ ঘোষ বলেছেন তৃণমূল নিজেরাই মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এই ইস্যুতে আরও উন্নয়নের জন্য সরকারকে স্থানীয় সভা ডেকে আলোচনা করা উচিত। পাঠকদের জন্য পরামর্শ সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন রাজনৈতিক বক্তব্যকে নয়।

