পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। বর্তমান খবর অনুযায়ী, তিনি নিজেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে নিজের মামলা লড়তে পারেন। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ভারতের ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সম্ভবত প্রথম কোনও আসীন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের এবং রাজ্যের জনগণের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টে ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করার অনুমতি চেয়েছেন। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী (LLB ডিগ্রিধারী), তাই তিনি নিজেই এই আইনি লড়াই পরিচালনা করতে আগ্রহী।
- মামলার মূল বিষয় (SIR): নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তিনি এই মামলা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের বিদ্যমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই যেন আগামী নির্বাচন পরিচালনা করা হয়।
- আদালতে সশরীরে উপস্থিতি: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্দেশ্যে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করার অনুমতি চেয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনও দাখিল করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রবেশের জন্য তাঁর নামে ইতিমধ্যে পাস ইস্যু করা হয়েছে।
- রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট: ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই লড়াইয়ের পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বনাম রাজ্য সরকারের আইনি টানাপোড়েনও সুপ্রিম কোর্টে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি কেবল রাজ্যের অধিকার রক্ষায় নয়, বরং গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে বিচারব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখছেন।
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে তিনি আদালতের গরিমা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন এবং একজন আবেদনকারী হিসেবে মামলার সব তথ্য তাঁর নখদর্পণে। তাঁর মতে, আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত তল্লাশি এবং ভোটার তালিকায় সংশোধনী—সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার মোকাবিলা তিনি নিজেই আইনি পথে করতে চান।

