নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কথায় আছে, “চেষ্টা করলে অসাধ্য সাধন করা যায়।” সেই প্রবাদকেই সত্যি প্রমাণ করলেন হাওড়া জেলার শ্যামপুরের এক প্রান্তিক চাষি পরিবারের কন্যা লোপামুদ্রা জানা। ইউজিসি নেট (UGC NET) পরীক্ষায় বাংলা বিভাগে ৩০০-এর মধ্যে ২৩২ নম্বর পেয়ে সারা দেশের মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না।
ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো
লোপামুদ্রার এই জয় এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। এর আগে দু-দু’বার নেট পরীক্ষায় বসলেও জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (JRF) তাঁর অধরা ছিল। অনেকেই হয়তো হাল ছেড়ে দিতেন, কিন্তু লোপামুদ্রা দমে যাননি। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে তৃতীয়বার পরীক্ষায় বসেন এবং অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে আনেন।
সাধারণ জীবন, অসাধারণ কৃতিত্ব
শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকের নকুয়াদহ গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া লোপামুদ্রার। বাবা পেশায় একজন প্রান্তিক চাষি। অভাবের সংসারে প্রতিকূলতাকে জয় করেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক হওয়ার সময় তিনি স্বর্ণপদক (Gold Medal) পেয়েছিলেন। এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
সাফল্যের মূল মন্ত্র
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লোপামুদ্রা জানান, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে ছিল ধারাবাহিকতা। নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে নয়, বরং যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই বই নিয়ে বসেছেন। দু’বার জেআরএফ না পাওয়ার হতাশা থাকলেও, জেদ ছিল এবার লক্ষ্যভেদ করার। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর (২৩২) তাকে জাতীয় স্তরের মেধাতালিকায় শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।
গর্বিত জেলা ও পরিবার
লোপামুদ্রার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা শ্যামপুর জুড়ে। তাঁর এই কৃতিত্ব শুধুমাত্র হাওড়া জেলার নয়, বরং গোটা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। আগামী দিনে গবেষণার কাজে নিজেকে সঁপে দিতে চান এই মেধাবী ছাত্রী। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও কঠোর পরিশ্রম যে সাফল্যের শেষ কথা বলে, লোপামুদ্রা আজ সেই অনুপ্রেরণার নাম।

